ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) হিসেবে বসবাসকারীদের জন্য নাগরিকত্ব অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে নাগরিকত্ব পেতে হলে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণের পাশাপাশি কয়েকটি বাধ্যতামূলক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলে আবেদন থেকে শুরু করে শপথ গ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা সম্ভব।
প্রথম ধাপ: যোগ্যতা নিশ্চিত করা
নাগরিকত্বের আবেদন করতে হলে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। সাধারণ নিয়মে অন্তত পাঁচ বছর ধরে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে হয়। তবে কোনো মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে বৈধভাবে বিবাহিত এবং একসঙ্গে বসবাস করলে তিন বছর পরই আবেদন করা যায়।
এ ছাড়া, পাঁচ বছরের নিয়মে আবেদনকারীর অন্তত ৩০ মাস এবং তিন বছরের নিয়মে অন্তত ১৮ মাস যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকার শর্ত রয়েছে। যে অঙ্গরাজ্য থেকে আবেদন করবেন, সেখানে অন্তত তিন মাস বসবাসের প্রমাণ, সুনাগরিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য আচরণ এবং নিয়মিত কর পরিশোধের রেকর্ডও থাকতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: আবেদনপত্র জমা দেওয়া
যোগ্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর নাগরিকত্বের আবেদনপত্র পূরণ করে অনলাইনে অথবা ডাকযোগে জমা দিতে হয়। আবেদনপত্রের সঙ্গে গ্রিন কার্ডের অনুলিপি, প্রয়োজনীয় বৈবাহিক নথি, ভ্রমণের তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হয়।
২০২৬ সালের নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদন করলে খরচ ৭১০ ডলার এবং কাগজে আবেদন করলে ৭৬০ ডলার। এই ফি-এর মধ্যেই আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকে।
তৃতীয় ধাপ: বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান
আবেদন গ্রহণের পর কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেয়। আবেদনকারীকে সেখানে উপস্থিত হয়ে আঙুলের ছাপ, ছবি এবং স্বাক্ষর দিতে হয়। এই ধাপে কোনো সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত অল্প সময়েই সম্পন্ন হয়।
চতুর্থ ধাপ: নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকার
এরপর আবেদনকারীকে নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হয়। এ সময় কর্মকর্তারা আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য, ভ্রমণের ইতিহাস, কর্মজীবন, বৈবাহিক অবস্থা এবং কর পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করেন। তাই আবেদনপত্রে দেওয়া সব তথ্য সঠিক ও নির্ভুল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পঞ্চম ধাপ: ইংরেজি ও নাগরিকত্ব পরীক্ষা
সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি আবেদনকারীকে ইংরেজি ভাষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সরকারব্যবস্থা বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত প্রশ্নভান্ডার থেকে সর্বোচ্চ ২০টি প্রশ্ন করা হয় এবং অন্তত ১২টির সঠিক উত্তর দিতে হয়। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাসকারী কিছু আবেদনকারীর জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে।
ষষ্ঠ ধাপ: আবেদন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
সব প্রক্রিয়া শেষে কর্তৃপক্ষ আবেদন অনুমোদন, স্থগিত অথবা বাতিল—যেকোনো একটি সিদ্ধান্ত জানায়। আবেদন অনুমোদিত হলে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পাঠানো হয়। অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন হলে কিংবা প্রথমবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হতে পারে এবং পরবর্তীতে আবার সুযোগ দেওয়া হয়। আবেদন বাতিল হলেও নির্ধারিত নিয়মে পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ থাকে।
সপ্তম ধাপ: আনুগত্যের শপথ গ্রহণ
নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ হলো আনুগত্যের শপথ গ্রহণ। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের আগে কেউ মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত হন না। অনুষ্ঠানের দিন আবেদনকারীকে তার স্থায়ী বাসিন্দার পরিচয়পত্র (গ্রিন কার্ড) জমা দিতে হয় এবং নির্ধারিত শপথ পাঠ করতে হয়। এরপর তাকে নাগরিকত্বের সনদ দেওয়া হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ।
এই সনদের ভিত্তিতে তিনি মার্কিন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং ভোটাধিকারসহ একজন পূর্ণাঙ্গ মার্কিন নাগরিক হিসেবে সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে পারবেন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.