প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৪৫ (বৃহস্পতিবার)
দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট ১৭ বছরের সরকারের অব্যবস্থাপনার ফল: সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের উন্নয়নে জবাবদিহিতা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশকে বদলে দেওয়া কঠিন নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে এ পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি জ্বালানি খাতের সংকটের কথা উল্লেখ করেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা এবং শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সিলেট জেলা প্রশাসন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট গত ১৭ বছরের সরকারের অব্যবস্থাপনার ফল। বাংলাদেশ আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় জ্বালানি চাহিদা পূরণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নতুন বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এ সময় স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও তা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, উন্নয়ন একটি সম্মিলিত প্রয়াস। তারুণ্যের শক্তিকে সামাজিক শক্তিতে পরিণত করে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে সরকার বদ্ধপরিকর।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জুলাই যোদ্ধারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তারা যথাযথ সম্মান পাচ্ছেন না। জুলাই যোদ্ধা লিটন আহমদ বলেন, ভাতার জন্য কেউ আন্দোলনে যাননি। গেজেটভুক্ত যোদ্ধারা বিভিন্ন গোষ্ঠীর হুমকির মুখে রয়েছেন। গেজেট যদি হুমকির কারণ হয়ে থাকে, তবে সেটি বাতিল করে দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জুলাই-সংক্রান্ত মামলার তদন্তে পুলিশের অনেক সদস্য আন্দোলনের ভিডিও ফুটেজ চাইছেন। অথচ কেউ ভবিষ্যতের প্রমাণ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আন্দোলনে অংশ নেননি।

এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্যরা আবেগঘন পরিবেশে তাদের স্বজনদের স্মৃতিচারণ করেন। শহীদ পাভেলের বাবা শহীদ পরিবারগুলোর নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বাণিজ্যমন্ত্রীকে গোলাপগঞ্জের সাত শহীদের কবর জিয়ারতের অনুরোধ করেন।

শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের ভাই জাবুর আহমদ বলেন, ১৯ জুলাই কালেক্টরেট মসজিদের সামনে থেকে বের হওয়া একটি মিছিলে বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি শহীদ তুরাবের মরদেহ নিয়ে ঘটে যাওয়া হেনস্তার ঘটনাও স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেন, যেকোনো মূল্যে জুলাই যোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং কল্যাণমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক বলেন, জুলাই আন্দোলন না হলে দেশ ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে পারত। তিনি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, জুলাই যোদ্ধারা দেশের গর্বিত সন্তান, তাদের কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।

অনুষ্ঠানে ১৪টি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা এবং আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসা কয়েস লোদী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।