প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট, ২০২৬ ২০:২৩ (বুধবার)
ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু: ক্ষতিপূরণ নিয়ে হাইকোর্টের রুল

ছবি সংগৃহীত :

ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

 

 

এই মৃত্যু নিয়ে গঠিত জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সুপারিশ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রতিবেদনসহ সুপারিশপত্র পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আখতার হোসেন মো. আবদুল ওয়াহাব।

আইনজীবী শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘মির্জা ইশতিয়াকের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশ্নে রুল দিয়েছেন আদালত। স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।’

গত ২৬ জুন একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ডিবির হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর আগে আটকের সময় কী ঘটেছিল, এমন ভিডিও ফেসবুকে’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এই রিট আবেদনটি করে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। রিটে ঘটনার বিচারিক তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২০ জুন বিকেলে মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্ধারদিয়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে নিজ বাড়ির সামনে থেকে ইশতিয়াককে আটক করে ডিবি পুলিশ। ডিবি হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত ইশতিয়াক ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ফরিদপুর চিনিকলে মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

এদিকে, ইশতিয়াকের মৃত্যুর আগে ২১ জুন সকালে ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহাদুজ্জামান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন।

মামলায় বলা হয়, ইশতিয়াকের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেফতারের সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এই মৃত্যুকে হেফাজতে মৃত্যু হিসেবে দাবি করা হয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাওয়া হয়েছে। আদালতের এই রুলের মাধ্যমে বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় এলো।