প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১৪ (মঙ্গলবার)
সিলেটে হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ২ শিশুর, মৃতের সংখ্যা ১১৬

সিলেট বিভাগে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০৬ জনে এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১৬।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় প্রকাশিত ‘হাম ও রুবেলা রোগের পরিস্থিতি প্রতিবেদনে- এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৭০৬ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় সর্বোচ্চ ৩৪৩ জন, সিলেট জেলায় ২৩৫ জন, হবিগঞ্জে ৬৭ জন এবং মৌলভীবাজারে ৬১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া হবিগঞ্জে আক্রান্তদের মধ্যে দুইজনের রুবেলা রোগ শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে মোট ২৫৪ জন সন্দেহজনক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত দুই শিশুই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এবং তারা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

জেলাভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছরে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে সিলেট বিভাগে মোট ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৫১ জন, সিলেট জেলায় ৪০ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং হবিগঞ্জে ১২ জন মারা গেছেন। নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৬ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। তাই শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা নিশ্চিত করা, আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। রোগটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বিভাগজুড়ে নজরদারি ও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।