প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১১:১২ (মঙ্গলবার)
বিশ্ববাজারে বাড়ল সোনার দাম

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানো স্থগিত রাখা এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির এই দরপতনের ইতিবাচক প্রভাবে দাম বাড়তে শুরু করেছে সোনার।

সোমবার (৩ আগস্ট) লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক দরপত্রে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫ দশমিক ৭৬ ডলারে পৌঁছায়। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪ ডলারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বার্তা দেওয়ায় বিশ্ববাজারে সাময়িক স্বস্তি দেখা দিয়েছে। আলোচনার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম পাঁচ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। এ ছাড়া জাপানি ইয়েনের মান বাড়াতে দেশটির মুদ্রা বাজার কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ডলারের দর কিছুটা নামিয়ে এনেছে। ডলারে মূল্য নির্ধারিত হওয়ায় ডলারের দরপতনে বিশ্বজুড়ে ক্রেতাদের কাছে সোনার ক্রয়মূল্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে, যা পণ্যটির মূল্যবৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়তা করেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষণী সংস্থা ‘কেসিএম ট্রেড’–এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, বিশ্ববাজারে সোনার দাম চড়তে শুরু করলেও মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তেলের বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে সোনার ঊর্ধ্বগতির ধারা এখনো কিছুটা নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রয়েছে।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার সংক্রান্ত পরবর্তী নীতি নির্ধারণ করবে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন শ্রমবাজারের তথ্য এবং ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলে বা নমনীয় নীতি গ্রহণ করলে সোনার দাম আরও বাড়তে পারে।

এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ১৩ ডলারে, প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৩৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৯৪ দশমিক ৯২ ডলারে পৌঁছেছে।