প্রকাশিত: ০২ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:৩৮ (সোমবার)
পাওনা শোধ না করেই বাংলাদেশে অর্ডার স্থগিতের ঘোষণা পোলিশ ব্র্যান্ড

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার (সাড়ে চার শ কোটি টাকা) পাওনা শোধ না করেই দেশে নতুন ক্রয়াদেশ (অর্ডার) দেওয়া স্থগিত করেছে পোল্যান্ডের আন্তর্জাতিক পোশাক জায়ান্ট ‘এলপিপি’। দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে বকেয়া অর্থ আটকে রাখার পর উল্টো সোর্সিং বন্ধের এই ঘোষণা দিল পোলিশ ব্র্যান্ডটি।

রোববার (২ আগস্ট) দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি গণমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানা যায়।  

গত ৩০ জুলাই বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের এক চিঠিতে এলপিপি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ভবিষ্যৎ ব্যবসার কৌশলগত পর্যালোচনার জন্য তারা বাংলাদেশে সব ধরনের নতুন ক্রয়াদেশ এবং নতুন পণ্য উন্নয়ন কার্যক্রম স্থগিত রাখছে। একই সঙ্গে পোশাক সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ ছেড়ে অন্য কোনো দেশে বিকল্প উৎপাদনের সুযোগ খোঁজার হুমকিও দিয়েছে সংস্থাটি। 

রপ্তানিকারক ও বায়িং হাউসগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পাওনা আদায়ের উদ্দেশ্যে ক্ষতিগ্রস্ত দেশীয় কারখানাগুলো আদালতের শরণাপন্ন হলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে এলপিপি। বকেয়া পরিশোধ নিয়ে আলোচনার মূল শর্ত হিসেবে দায়ের করা সব আইনি মামলা প্রত্যাহারের জন্য তারা বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের ওপর চাপ দিয়ে আসছিল।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সরাসরি ব্যবসায়িক জটিলতা এড়াতে এলপিপির দেওয়া গ্যারান্টিতে ‘এফইএস রিটেইল’ নামের একটি রুশ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পোশাক তৈরি ও পাঠায় বাংলাদেশের অন্তত ৪০টি কারখানা ও বায়িং হাউস। তবে পণ্য পৌঁছানোর পর থেকে গত দেড় বছর ধরে কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি তারা। সম্প্রতি এলপিপি দায় এড়িয়ে দাবি করে, ওই রুশ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো দেনা-পাওনার হিসাব নেই।

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৭০ কোটি ডলারের বিপুল পরিমাণ পোশাক সোর্সিং করা এই বহুজাতিক ব্র্যান্ডের এমন একপক্ষীয় সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুসে উঠছেন দেশীয় তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। পাওনা না মিটিয়ে উল্টো ক্রয়াদেশ স্থগিত করার এই পদক্ষেপকে দেশীয় সরবরাহকারীদের ভয় দেখিয়ে কোণঠাসা করার একটি অপকৌশল হিসেবেই দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলা ও সমাধানের পথ খুঁজতে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা মালিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে।

এ বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘তারা বাংলাদেশ থেকে সোর্সিং বন্ধ করবে কি না, সেটি তাদের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত। তবে আমাদের রপ্তানিকারকদের পাওনা না দিলে এলপিপিকে বাংলাদেশে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্টেড) করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ফোরামেও প্রতিষ্ঠানটির এই অনিয়মের কথা তোলা হবে।’

তবে বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল হামিদ জানান, বছরে ৭০ কোটি ডলারের বাজার হারানো খাতটির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে। তাই সমঝোতার মাধ্যমে বকেয়া উদ্ধার এবং বাণিজ্য বজায় রাখার পথ খোঁজা উচিত। তিনি জানান, এলপিপি পূর্বে বকেয়ার ৫০ শতাংশ ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছিল, যা স্থানীয় কারখানার জন্য মেনে নেওয়া অসম্ভব।