প্রকাশিত: ০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩৪ (রবিবার)
সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে সূচক-লেনদেনে গতি

ছবি: সংগৃহীত

গত সপ্তা‌হের পাঁচ কার্যদিব‌সে (২৬-৩০ জুলাই) দে‌শের শেয়ারবাজা‌রে সূচক ও লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে। এ সময় প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্স‌চে‌ঞ্জের (ডিএসই) সা‌র্বিক সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ। এছাড়া এক্সচেঞ্জটির অন্যান্য সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পাশাপাশি সপ্তাহজুড়ে এক্সচেঞ্জটির লেনদেন কিছুটা বেড়ে ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। দেশের আরেক শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তা‌হে সূচক ও লেন‌দে‌ন বে‌ড়ে‌ছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৯১ পয়েন্ট বে‌ড়ে ৫ হাজার ৮৯৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫ পয়েন্ট বে‌ড়ে ২ হাজার ২১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১৯৩ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ১২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৯৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১৮৩ পয়েন্ট।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৮টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৬৪টির, কমেছে ৮৯টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির। আর লেনদেন হয়নি ২৩টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থা‌নে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, পূবালী ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ডমিনেজের শেয়ার।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে দশমিক ৩১ শতাংশ।

খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ৫ শতাংশ করে দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১২ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। সাধারণ বিমা খাত ১০ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ দশ‌মিক ৮ শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ৮ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সাধারণ বিমা খাতে। এছাড়া খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ৬ দশমিক ২ শতাংশ, বস্ত্র খাতে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, সেবা খা‌তে ৩ দশ‌মিক ৭ শতাংশ এবং বিবিধ খা‌তে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। গত সপ্তাহে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে সিমেন্ট খাতে দশমিক ৭ শতাংশ, কাগজ খাতে দশমিক ৪ শতাংশ এবং টেলিযোগাযোগ খাতে ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে দশমিক ১ শতাংশ।

সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশ‌মিক ৯০ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৭৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ৬২০ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে দশ‌মিক ৮৪ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৬১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৫৩৭ পয়েন্ট।

সিএসইতে গত সপ্তাহে ১৭০ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৮টির, কমেছে ১১৩টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৮টির বাজারদর।