প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩১ (মঙ্গলবার)
মস্তিষ্কের যে পাঁচ রোগ নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে 

ছবি: সংগৃহীত

ব্রেন স্ট্রোককে আগে শুধু মস্তিষ্কের রোগ বলে ভাবা হতো কিন্তু বর্তমানে মেনিনজাইটিস, ব্রেন টিউমার ও ব্রেন ক্যানসারের মতো রোগের প্রকোপও বেড়ে চলেছে। যেকোনো বয়সেই হতে পারে এ রোগ তবে বয়স চল্লিশ পেরোলে ঝুঁকি যেন আরও বেড়ে যায়। তাই মস্তিষ্কের যে পাঁচটি রোগ নিয়ে সচেতন থাকা এবং রোগগুলোর লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জেনে রাখা জরুরি।

ব্রেন স্ট্রোক :

মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ যখন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় অথবা মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে গিয়ে ভেতরে যদি রক্তক্ষরণ হয়, তখন তাকে স্ট্রোক বলা হয়। রক্ত সরবরাহ বন্ধ হলে অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্কের কোষ বা স্নায়ুগুলো নষ্ট হতে থাকে।

উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত খারাপ কোলেস্টেরল, ধূমপান, স্থূলতা এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ স্ট্রোকের প্রধান কারণ। এ ছাড়া হার্টের কোনো সমস্যা (যেমন : আর্টেরিয়াল ফাইব্রিলেশন) থাকলেও মস্তিষ্কে রক্তের জমাট বাঁধতে পারে। 

স্ট্রোক হলে হাত-পা অসাড় হয়ে যেতে পারে, মুখের একপাশ বেঁকে যেতে পারে, শরীরের এক দিক প্যারালাইসড হয়ে যেতে পারে এবং রোগীর কথাবার্তা অসংলগ্ন হতে পারে।

ব্রেন ক্যানসার :

ব্রেন টিউমার মানেই ক্যানসার নয়। আর ব্রেন ক্যানসার মানেই জীবনের শেষ নয়। রোগ নির্ণয় এবং তার পরে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিরাময় সম্ভব। বিশেষ এক ধরনের ব্রেন টিউমারকে গ্লায়োমা বলা হয়। এ গ্লায়োমা বা ব্রেন ক্যানসার মস্তিষ্কের যেকোনো অংশে হতে পারে। 

খিঁচুনি, কানে কম শোনা, অনেক দিন ধরে মাথা ব্যাথা করার মতো ঘটনা ব্রেন ক্যানসারের উপসর্গ। তাই শরীরে এমন কোনো লক্ষণ দেখা দিলেই নিউরোসার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।

মেনিনজাইটিস :

মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য একটি স্বচ্ছ স্তর বা আবরণী থাকে, যাকে বলা হয় মেনিনজেস। এটি যেমন বাইরের আঘাত থেকে মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেওয়ার কাজ করে, তেমনই আবার পুষ্টি জোগাতেও সাহায্য করে। মেনিনজেসে যদি কোনো কারণে সংক্রমণ বা প্রদাহ হয়, তখন তাকে বলা হয় মেনিনজাইটিস। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা কোনো পরজীবীর সংক্রমণে মেনিনজাইটিস হতে পারে।

মেনিনজাইটিস মূলত স্নায়ুঘটিত রোগ। ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস মস্তিষ্কে ঢুকলে প্রথমে মস্তিষ্কের কোষ ও স্নায়ুগুলোকে আক্রমণ করে। ফলে খুব দ্রুত কোষের ক্ষয় হতে থাকে। ফলে এক দিকে যেমন মাথাঘোরা, বমি ভাব বা মাইগ্রেনের মতো লক্ষণ দেখা দিতে থাকে, তেমনই সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না হলে স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে, মৃত্যুঝুঁকি হতে পারে।

পারকিনসন :

আগে মনে করা হতো পারকিনসন বয়সকালের রোগ। কিন্তু পারকিনসন হানা দিতে পারে অনেক আগেই। এ রোগের উৎস সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারে না। এটি নিয়ে বিভিন্ন দেশে নিরন্তর গবেষণা চলছে। 

যদিও গবেষকেরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, খাবারে টক্সিনের উপস্থিতি এবং জিনগত কারণে পারকিনসনের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। 

কোনো ব্যক্তি এ রোগে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ বা নিউরন নষ্ট হতে থাকে। ফলে স্নায়বিক কার্যকলাপ ব্যাহত হয় এবং রোগী শরীর নড়াচড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকেন। 

মৃগী রোগ :

মৃগী হলো স্নায়ুঘটিত রোগ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জিনগত কারণে এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত থেকেও মৃগী রোগ হতে দেখা গেছে অনেকের। নবজাতক থেকে শুরু করে বয়স্কদেরও ভিন্ন ভিন্ন কারণে এ রোগ হতে পারে। 

মস্তিষ্কে স্নায়ু কিংবা গঠনগত কোনো সমস্যা থাকলেও কিন্তু এ রোগ দেখা দিতে পারে। মানুষের মস্তিষ্কে অসংখ্য সূক্ষ্ম স্নায়ুর ‘সার্কিট’ থাকে, যা শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে। সেই স্নায়ুর সার্কিটে অতিরিক্ত ‘স্পার্কিং’-এর কারণেই মৃগী রোগ দেখা দেয়। 

মৃগী রোগের নানা ধরন আছে। উপসর্গও আলাদা। কারো খিঁচুনি বেশি হয়, কারো কম হয়। রোগীর সমস্যাটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেটি বোঝার জন্য এমআরআই এবং ইসিজি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। রোগের মাত্রা বুঝে রোগীকে ওষুধ খেতে হয়।