ছবি: সংগৃহীত
পেটের মেদ মানেই শুধু বাড়তি ওজন বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি—এমন ধারণা এখন আর পুরোপুরি সঠিক নয়। নতুন গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। পেটের গভীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি বা ভিসেরাল ফ্যাট ধীরে ধীরে মস্তিষ্কেরও ক্ষতি করতে পারে। এমনকি স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, চিন্তাশক্তি দুর্বল হওয়া এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
অ্যাপোলো হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুধীর কুমারের মতে, ভিসেরাল ফ্যাট শরীরের এমন এক ধরনের চর্বি, যা শুধু অতিরিক্ত শক্তি জমা রাখে না, বরং শরীরে নানা ধরনের প্রদাহ সৃষ্টিকারী রাসায়নিক ও হরমোনও তৈরি করে। এসব উপাদান দীর্ঘদিন ধরে শরীরে থাকলে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
১. কেন সবচেয়ে বেশি ভয় ভিসেরাল ফ্যাটে?
শরীরে দুই ধরনের চর্বি বেশি দেখা যায়। একটি ত্বকের নিচে জমে থাকা চর্বি, অন্যটি পেটের গভীরে লিভার, অন্ত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের চারপাশে জমে থাকা ভিসেরাল ফ্যাট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় ধরনের এই চর্বিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। কারণ এটি শরীরের ভেতরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি করে এবং নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
২. মস্তিষ্কের ওপর কী প্রভাব পড়ে?
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে ভিসেরাল ফ্যাট বেশি, তাদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে।
এছাড়া গবেষকেরা মস্তিষ্কের সামগ্রিক আকার ছোট হয়ে যাওয়া এবং স্মৃতি ও শেখার সঙ্গে জড়িত অংশের আকার কমে যাওয়ারও সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পরিবর্তন ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৩. কীভাবে মস্তিষ্কের ক্ষতি করে?
ভিসেরাল ফ্যাট থেকে নিঃসৃত প্রদাহজনিত উপাদান শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের পাশাপাশি মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে মস্তিষ্কের কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।
গবেষকদের মতে, এই দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহই স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া এবং মানসিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
৪. কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের পেটের মেদ বেশি, অতিরিক্ত ওজন রয়েছে অথবা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য বিপাকজনিত সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ভিসেরাল ফ্যাটের পরিমাণও বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই এসব ব্যক্তির মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখার জন্যও পেটের মেদ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
যেভাবে কমানো সম্ভব ভিসেরাল ফ্যাট :
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলেই ভিসেরাল ফ্যাট অনেকটাই কমানো সম্ভব। যেমন—
১. নিয়মিত শরীরচর্চা করা
২. সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
৩. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
৪. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা
৫. দীর্ঘদিন বসে থাকার অভ্যাস কমানো
মনে রাখবেন-
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য শুধু ধাঁধা সমাধান বা বই পড়াই যথেষ্ট নয়। পেটের অতিরিক্ত মেদ নিয়ন্ত্রণেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
কারণ সুস্থ কোমর শুধু শরীরকেই নয়, স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্ককেও দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.