প্রকাশিত: ২৪ জুলাই, ২০২৬ ১০:২০ (শনিবার)
বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে দুই ব্যাটেলিয়নে গণ্ডগোল, গুলিতে ২ বিএসএফ সদস্য নিহত

ফাইল ছবি:

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) দুই ব্যাটেলিয়নের সদস্যদের মধ্যে গণ্ডগোলের জেরে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন বাহিনীর দুইজন সদস্য। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন একই ব্যাটেলিয়নের আরও একজন। 

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গের মালদাহ জেলার বৈষ্ণবনগর বিএসএফ ক্যাম্পে। এদিন ক্যাম্পের ১১৯ নম্বর ও ৭১ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কিছু সদস্যের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়, এরপরেই গুলি চললে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বিএসএফের ১১৯ নম্বর ব্যাটালিয়ন এবং ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর রয়েছে রাজশাহী সীমান্তের ওপারে পশ্চিমবঙ্গের মালদাহ জেলার বৈষ্ণবনগরে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সেখানেই বিবাদে জড়িয়ে পড়েন দুই ব্যাটেলিয়নের কয়েকজন বিএসএফ সদস্য। এরপরেই সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান ১১৯ নম্বর ব্যাটেলিয়নের সদস্য শিবম মিশ্র। তিনি ছত্তিশগড় রাজ্যের বাসিন্দা। তার গুলিতেই মৃত্যু হয় ৭১ নম্বর ব্যাটেলিয়নের দুই বিএসএফ সদস্যের। গুরুতর আহত হন একই ব্যাটেলিয়নের আরও একজন সদস্য।

নিহত দুজনের নাম অজয় কুমার সিং বয়স (৫১) ও আম্বদর সুরেশ দরগু (৩৭) বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত অন্যজনের নাম বিকাশ ব্রম্ম (৪৪)। বর্তমানে তিনি মালদাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহত দুই বিএসএফ সদস্যের মরদেহও ময়নাতদন্তের জন্য একই হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়েছে। 

এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি বিএসএফ। তবে, বিএসএফ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে জওয়ানরা বিশ্রাম নেয়ার সময় আচমকা সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে অভিযুক্ত শিবম। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেও সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ছিল। সেই ঘটনায় বিএসএফের নিজস্ব আইনে তার শাস্তিও হয়েছিল। দিন কয়েক আগে সেই শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়। সম্প্রতি তাকে বাড়ি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তার মধ্যেই আবারও একই কাণ্ড।

অবশ্য, ঠিক কী কারণে ওই বিএসএফ সদস্য গুলি চালালেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার নেপথ্যে ব্যক্তিগত বিবাদ, মানসিক অবসাদ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ, বিএসএফের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক এবং প্রশাসনের প্রতিনিধিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

বিএসএফের মালদাহ সেক্টরের ডিআইজি সুরেন্দ্র কুমার ঝা জানিয়েছেন, তাদের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। আটক করা হয়েছে অভিযুক্তকে। এছাড়া ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশও।