প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৫৬ (শনিবার)
সিলেটের প্রবীণ আলেম শায়খুল হাদীস মাওলানা ফজলুল হক খানে ইন্তেকাল

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের প্রবীণ আলেমে দ্বীন, শায়খুল হাদীস এবং মাখযানুল উলূম গাফফারিয়া মাদ্রাসা, খাড়াভরা, বিয়ানীবাজারের দীর্ঘদিনের মুহতামিম ও বর্তমান সদর মুহতামিম মাওলানা ফজলুল হক খান (বারহালী হুজুর) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভোগার পর সোমবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে সিলেট নগরীর ফাজিল চিশত এলাকার নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

মরহুম মাওলানা ফজলুল হক খান (রহ.) দীর্ঘকাল মাখযানুল উলূম গাফফারিয়া মাদ্রাসা, খাড়াভরা, বিয়ানীবাজারের মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সদর মুহতামিম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি ঢাকাদক্ষিণ দারুল উলূম হুসাইনিয়া মাদ্রাসার সাবেক সিনিয়র মুহাদ্দিস ছিলেন। নগর মহিলা মাদ্রাসা, নালিউরী মহিলা মাদ্রাসা এবং রায়গড় দত্তরাইল মহিলা মাদ্রাসায় শায়খুল হাদীস হিসেবে দীর্ঘদিন হাদীসের দরস প্রদান করেন।

তিনি খলিফায়ে মাদানী হযরত শায়খে গুনই (রহ.)-এর বিশিষ্ট খলিফা ছিলেন। ইলম, আমল ও তাসাউফের খেদমতের মাধ্যমে তিনি সিলেট অঞ্চলের দ্বীনি অঙ্গনে একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি ৫ ছেলে, ৩ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, ছাত্র, ভক্ত, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাদ যোহর হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে মরহুমের ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আযাদ দ্বীনি এদারা তা'লীম বোর্ডের সভাপতি এবং জামিয়া মাদানিয়া আঙ্গুরা মুহাম্মদপুরের মুহতামিম আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীন।

এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, “মাওলানা ফজলুল হক খান (রহ.) ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিস, বরেণ্য শিক্ষাবিদ, মুদাররিস ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। তিনি সারাজীবন ইলমে দ্বীনের প্রচার-প্রসার, হাদীসের খেদমত এবং অসংখ্য আলেম-উলামা গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। তাঁর ইন্তেকালে সিলেটসহ দেশের দ্বীনি অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি মরহুমের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করেন, আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, ছাত্র ও শুভানুধ্যায়ীদের সবরে জামিল দান করেন।