প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬ ১৮:৫২ (শনিবার)
এসএমপির নিষেধাজ্ঞা কাগজেই, সিলেটে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে সুইচ গিয়ার চাকু

সিলেট স্টেশনারি দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাত-সবখানেই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে সুইচ গিয়ার চাকুসহ নানা ধরনের ছোট অস্ত্র। সহজে বহনযোগ্য ও হাতের নাগালে পাওয়া এসব অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে খুন, ছিনতাই ও অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধে।

বিশেষ করে সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এসব অস্ত্র ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অতীতে সুইচ গিয়ার চাকুসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে নগরীতে একাধিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

অপরাধ তদন্তেও রাস্তার ধারে বিক্রি হওয়া এসব ছুরি-চাকু আলামত হিসেবে উদ্ধার হয়েছে। তবে এতদিন প্রকাশ্যে বিক্রি হওয়া এসব প্রাণঘাতী অস্ত্র বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

সর্বশেষ গত ৩১ মে সিলেটে জুয়েল আহমদ (২৬) নামে এক যুবক তার বন্ধু মোহাম্মদ হাবিলের হাতে খুন হন। ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয় একটি সুইচ গিয়ার চাকু।

এ ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)।

গত ২ জুন রাত ১০টা ১৫ মিনিটে এসএমপি কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মহানগর এলাকায় সুইচ গিয়ার চাকুর ক্রয়-বিক্রয়, বহন, মজুদ, সরবরাহ ও ব্যবহার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিলেট মহানগর এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুইচ গিয়ার চাকুর সব ধরনের লেনদেন, পরিবহন, সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

তবে বিজ্ঞপ্তি জারির পরও মাঠপর্যায়ে তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। নিষেধাজ্ঞা জারির একদিন পেরিয়ে গেলেও কোনো অস্ত্র উদ্ধার কিংবা বিশেষ অভিযান পরিচালনার খবর পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর বিভিন্ন স্টেশনারি দোকান, ‘ওয়ান টু ৯৯’ ধরনের দোকান এবং ফুটপাতে  এখনো অবাধে বিক্রি হচ্ছে সুইচ গিয়ার চাকুসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র।

শুধু তাই নয়, আত্মরক্ষার সরঞ্জাম হিসেবে বাজারজাত করা ইলেকট্রিক শক স্টান গান ও স্টিলের স্টিকও এখন অপরাধীদের হাতে চলে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের সময় ভুক্তভোগীদের কাবু করতে এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে সংঘটিত কিছু অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনাতেও এসব সরঞ্জাম ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।

বুধবার পর্যন্ত প্রকাশ্যে বিক্রি হওয়া এসব অস্ত্র জব্দ কিংবা কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়নি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমরা বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছি। আলাদা করে কোনো বিশেষ অভিযান চলছে না। তবে সুইচ গিয়ার চাকুসহ দেশি-বিদেশি ছুরি-চাকু বিক্রির তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

নগরবাসীর প্রশ্ন, নিষেধাজ্ঞা জারির পরও যদি প্রকাশ্যে এসব অস্ত্র বিক্রি চলতে থাকে, তাহলে তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ কবে নেওয়া হবে?