প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:৩৩ (শনিবার)
সুনামগঞ্জ হাওরে ডুবেছে ২০০ কোটি টাকার ধান

ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নামা ঢলে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান ডুবে যাওয়ায় চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। কোথাও পচা ধান তুলে বিপাকে, কোথাও পানিতে ভেসে যাচ্ছে আধাপাকা ফসল—সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার সকালে দেখার হাওরের গুয়াছুড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কনকনে বাতাসের মধ্যেই কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন শ্রমিকরা। শরীর পলিথিনে মোড়ানো, তবুও থামছে না কাজ। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা কৃষক রইছ মিয়ার চোখে-মুখে হতাশা। তিনি বলেন, দেড় লাখ টাকা ঋণ করে আবাদ করেছেন। এখন চিন্তা তিন দিক থেকে—জমির মালিককে ভাগ দেওয়া, ঋণ শোধ করা আর সারা বছর সংসার চালানো।
একই হাওরের বয়োজ্যেষ্ঠ কৃষক কমর আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘কেমনে চলমু পরিবার লইয়া।’

কৃষকদের সবচেয়ে বেশি বিপদে ফেলেছে বর্গাচাষের দায়। চুক্তি অনুযায়ী মালিককে ধান দিতে হবে, আবার ঋণের বোঝাও কাঁধে। অনেকেই পচা ধান তুলে ফেলতে পারছেন না, আবার শুকিয়েও তুলতে পারছেন না—ফলে দ্বিগুণ সংকটে পড়েছেন।

কৃষি বিভাগ বলছে, বুধবার বিকেল পর্যন্ত জেলায় ৯ হাজার ৪৯ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার টন ধানের ক্ষতি হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ২০০ কোটি টাকারও কম।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, উজানের পানিতে নদীর পানি বেড়েছে। হাওরের পানি নামতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরেও একই চিত্র। নলুয়ার হাওরের কৃষক সারদা চরন দাস জানান, ১৬ কেদার জমির মধ্যে মাত্র এক কেদার ধান তুলতে পেরেছেন। বাকি সব জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘সব শেষ হয়ে গেল। এখন কীভাবে বছর চলব, বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয়রা জানান, শুরুতে শ্রমিক সংকট ও জলাবদ্ধতায় ধান কাটা বিলম্বিত হয়। এরপর টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের জমি তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকের মতে, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধই এবার মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, নলুয়ার হাওরের প্রায় অর্ধেক ধান কাটা হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটে অনেক কৃষক ফসল তুলতে পারেননি। এখন নৌকা দিয়ে ধান তোলার চেষ্টা চলছে।

সব মিলিয়ে, হাওরজুড়ে এখন হতাশা আর অনিশ্চয়তার ছায়া—ফসল হারিয়ে নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে সুনামগঞ্জের কৃষকদের।